মোবাইল ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হওয়ার কারন ও সমাধান
0আপনারা অনেকেই বলেছেন ভাইয়া মোবাইল ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং মোবাইল ফোনের চার্জ কিভাবে বেশি সময় ধরে রাখা যায় এ বিষয়ে আমাদের কিছু টিপস দেন তাদের জন্য আসলে আজকের আমার এই আর্টিকেল এই আর্টিকেলের ভিতরে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব কেন কি কারনে মোবাইল ফোনের চার্জ দ্রুত কেন শেষ হয়ে যায় এবং এর সমাধান কি বা মোবাইল ফোনের চার্জ কিভাবে বেশি সময় ধরে রাখা যায়। এসকল বিষয় নিয়ে আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাদেরকে এটুজেড বিস্তারিত ক্লিয়ার করার চেষ্টা করব।
আমরা যারা প্রতিনিয়ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করি সারাদিন মোবাইল ব্যবহার করি তাদের জন্য মোবাইলে বেশি সময় চার্জ থাকা অনেক জরুরী। মোবাইল ফোনে দ্রুত চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া এটা কমন একটা সমস্যা এ সমস্যা থেকে কিভাবে কিছুটা হলেও বেরিয়ে আসতে পারি সে সকল বিষয় নিয়ে আজকের এই আর্টিকেল এ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব। বারবার মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া সবসময় সম্ভব হয় না, বা সব সময় মোবাইল ফোনের সাথে পাওয়ার ব্যাংক লাগিয়ে রাখা বা পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ব্যাকআপ হিসেবে ব্যবহার করা অনেক সময় কষ্টকর হয়ে ওঠে। এ জন্য যদি মোবাইল ফোনের চার্জ কোনভাবে বেশি সময় ধরে রাখা যেত সেটা আমাদের জন্য অনেক ভালো হতো।
তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের আজকের এই আর্টিকেল এই আর্টিকেলের ভিতরে আমি আপনাদেরকে জানাবো মোবাইল ফোনের চার্জ কোন কোন কারণে দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং কিভাবে মোবাইল ফোনের চার্জ বেশি সময় ধরে রাখা যায়। এক চার্জে মোবাইল কিভাবে অনেক সময় ব্যবহার করবেন সে সকল টিপস আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব। তাই যাদের মোবাইল ফোনে চার্জ থাকে না তারা এই আর্টিকেলটা সম্পুর্ন পড়তে থাকুন আশা করি অনেক কিছু জানতে পারবেন।
মোবাইলের চার্জ বেশি সময় ধরে রাখার উপায়ঃ
তাহলে চলুন আর দেরি না করে জেনে নেই মোবাইল ফোনের চার্জ ৭ টি কার্যকর উপায়ে কিভাবে বেশি সময় ধরে রাখা যায়।
১। ডিসপ্লের ব্রাইটনেস কমিয়ে ফেলুনঃ
মোবাইল ফোনের চার্জ বেশি সময় ধরে রাখার সবথেকে কার্যকরী পদক্ষেপ হলো আপনার মোবাইলের ডিসপ্লে ব্রাইটনেস বা আলো কমিয়ে রাখা। আপনি যদি কখনো দেখেন আপনার মোবাইলে কোন জায়গায় বা কোন কোন অ্যাপ্লিকেশনে আপনার চার্জ কতটুকু পরিমাণে খাচ্ছে সেখানে দেখতে পারবেন প্রায় ৫০ থেকে ৭০ পার্সেন্ট চার্জ শুধুমাত্র আপনার ব্রাইটনেস ডিসপ্লে খেয়ে নিচ্ছে। সহজভাবে বলতে গেলে আপনার মোবাইলের ডিসপ্লের আলো যত কমিয়ে রাখতে পারবেন আপনার মোবাইলের চার্জ ঠিক ততো বেশি যাবে। যত বেশি ব্রাইটনেস দিবেন আপনার মোবাইলে ততো বেশি চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। কাজেই সবসময় চেষ্টা করবেন যতটা সম্ভব ডিসপ্লের ব্রাইটনেস কমিয়ে ব্যবহার করার জন্য!! সে ক্ষেত্রে চার্জ ব্যাকআপ ভাল পাবেন।
২। লো-পাওয়ার মুড অনঃ
মোবাইল ফোনের চার্জ যখন কমে আসে ২০% এর কম তখন Low Power Mode On করে মোবাইল ব্যবহার করা উচিত। যদি আপনার মোবাইলটা 5.0 ভার্সন এর পরের আপডেট ভার্শন হয়ে থাকে তাহলে আপনার মোবাইলে অটোমেটিক ২০% এর কম চার্জ আসলে লো পাওয়ার মোড অন হয়ে যাবে। যখন আপনার মোবাইলে চার্জ ২০% এর কম হয়ে যাবে তখন অটোমেটিক লোপার মর্ডান হয়ে যাবে এবং আপনার মোবাইলে অনেক সময় ধরে চালু থাকা অ্যাপসগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে! সেক্ষেত্রে আপনার মোবাইলের ব্যাটারি ব্যাকআপ ভালো পাবেন।
৩। ব্যবহার শেষে আ্যাপস বন্ধ করুনঃ
বিভিন্ন প্রয়োজনে আমরা বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ্লিকেশন মোবাইলে ইন্সটল করে ব্যবহার করি কিন্তু ব্যবহার করা শেষ হয়ে গেলে ঐ অ্যাপ্লিকেশন টা কেটে না দিয়েই আমরা মিনিমাইজ করে অন্য কাজ করতে থাকি, সে ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ডে অ্যাপ্লিকেশন টা রানিং থাকে এবং সাইলেন্ট কিলার এর মত আমাদের ফোনের ব্যাটারি চার্জ শেষ করতে থাকে। এজন্য কাজ শেষ হয়ে গেলে সেই সফটওয়ার থেকে বেরিয়ে কেটে দেয়া উচিত।
৪। ব্যাটারি সেভার আ্যাপস থেকে বিরত থাকুনঃ
মোবাইলে চার্জ বেশি রাখার জন্য ব্যাটারি সেভার অ্যাপস ব্যবহার করা সম্পূর্ণ ভুয়া পদ্ধতি। কোন ব্যাটারি সেভার অ্যাপসের ক্ষমতা নাই আপনার মোবাইলে চার্জ বেশি সময় ধরে রাখার। বরং এই সকল অ্যাপস যদি আমাদের মোবাইলে ইন্সটল করে রাখি সে ক্ষেত্রে ওই অ্যাপ্লিকেশনগুলো উল্টা মোবাইলের চার্জ খেয়ে ফেলে। সে ক্ষেত্রে এই সকল এ্যাপলিকেশন থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন!! এতোটুকু করতে পারেন কোন এপ্লিকেশন ব্যবহার করার শেষে অ্যাপ্লিকেশন টা কেটে দিয়ে বেরিয়ে আসবেন যেন ওই অ্যাপ্লিকেশন আপনার আর কোন চার্জ না নিতে পারে।
৫। ওয়াইফাই ইন্টারনেট ব্যবহার করুনঃ
সিমের ইন্টারনেট না চালিয়ে যদি আপনি ওয়াইফাইয়ের ইন্টারনেট চালান সেক্ষেত্রে আপনার মোবাইলের চার্জ বেশি সময় থাকবে। এই বিষয়টা অনেকের কাছে আশ্চর্যজনক মনে হলেও এটাই সত্য! যখন আপনি মোবাইল দিয়ে ইন্টারনেট চালাবেন তখন ইন্টারনেট সিগনাল খোঁজার জন্য আপনার মোবাইলে অতিরিক্ত প্রেসার পড়বে এবং এর জন্য আপনার ব্যাটারি চার্জ ও বেশি খরচ হবে। আপনি নিজে এটা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন: মোবাইল দিয়ে সিমের ইন্টারনেট কিনে ১ ঘন্টা ইন্টারনেট চালিয়ে দেখতে পারেন সেখানে কত পার্সেন্ট ইন্টারনেট খরচ হচ্ছে, তদ্রুপ ভাবে ওয়াইফাই সংযোগ কানেক্ট করে ১ ঘন্টা ইন্টারনেট চালিয়ে দেখতে পারেন সেখানে আপনার মোবাইলে কত পারসেন্ট চার্জ খরচ হচ্ছে হিসাবটা আপনি নিজেই পেয়ে যাবেন।
৬। আসল ব্যাটারি ব্যবহার করুনঃ
সব সময় চেষ্টা করবেন মোবাইলের আসল ব্যাটারি ব্যবহার করার জন্য অনেক সময় মোবাইল চালাতে চালাতে একটা পর্যায়ে গিয়ে আমাদের ব্যাটারিটা যেকোন সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে সে ক্ষেত্রে চেষ্টা করবেন মোবাইলের অরিজিনাল ব্যাটারি ব্যবহার করার জন্য। এখন হয়তো অনেকে বলবেন যে মোবাইলের ব্যাটারি নষ্ট হওয়ার পরে আসল ব্যাটারি কোথায় পাব? আসল ব্যাটারি পাওয়ার জন্য সেই মোবাইল কোম্পানির কাস্টমার কেয়ারে গেলেই এই মোবাইলের অরিজিনাল আসল ব্যাটারি আপনি কিনতে পারবেন। এবং যেটা আপনার মোবাইলের জন্য পারফেক্ট করেই বানানো। সে ক্ষেত্রে ওই ব্যাটারিগুলো আপনার মোবাইলে যদি ব্যবহার করেন পূর্বের তুলনায় একইরকমভাবে ব্যাটারি ব্যাকআপ পাবেন। যেখানে অনেক পাওয়ারপুল থার্ড-পার্টি ব্যাটারি ব্যবহার করলেও আপনি সেরকম চার্জ ব্যাকআপ পাবেন না বরং আপনার মোবাইলটা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৭। যতটা সম্ভব কম আ্যাপস ব্যবহার করুনঃ
কিছু মানুষ আছেন অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করে মজা পান! এই মানুষগুলোর মোবাইলে চার্জ ও কম থাকে। যতটা সম্ভব কম অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করবেন। যে সফটওয়্যারগুলো আপনার প্রয়োজন শুধুমাত্র সেই সফটওয়্যার গুলো ফোনে ইন্সটল করে ব্যবহার করবেন! অতিরিক্ত সফটওয়্যার যদি মোবাইলে ইন্সটল দেন, সেই সফটওয়্যার গুলো আপনার মোবাইলের ব্যাটারি চার্জ প্রতিনিয়ত কমাতে থাকবে।
আসা করি আপনাদের ভালো লেগেছে 🌷
x

Post a Comment